নিজস্ব সংবাদদাতা, ৬ জুলাই ২০২৬ :
শ্রদ্ধা, শিল্প ও ঐতিহ্যের এক অনন্য মেলবন্ধনের সাক্ষী থাকল আজকের দিনটি। প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিবিদ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিনে তাঁকে স্মরণ করে শোলার থালা কেটে তৈরি এক অভিনব প্রতিকৃতি তুলে দেওয়া হল পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপ্ত কার্তিক মহারাজের হাতে। এই বিশেষ প্রতিকৃতির স্রষ্টা সাংবাদিক, শিল্পী ও ইঞ্জিনিয়ার সৌরভ আদক।
এদিনের এই অনুষ্ঠান শুধুমাত্র একটি প্রতিকৃতি অর্পণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা হয়ে উঠেছে এক গভীর আবেগের প্রকাশ। শোলার মতো ঐতিহ্যবাহী উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি এই প্রতিকৃতিতে ফুটে উঠেছে শিল্পীর নিখুঁত দক্ষতা ও শ্রদ্ধাবোধ। বাংলার লোকশিল্পের অন্যতম পরিচিত মাধ্যম শোলা, যা সাধারণত পুজো ও সাজসজ্জার কাজে ব্যবহৃত হয়—সেই উপাদান দিয়েই এক মহান ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি নির্মাণ সত্যিই নজরকাড়া উদ্যোগ।
সৌরভ আদক, যিনি পেশায় সাংবাদিক হলেও শিল্পচর্চার প্রতি তাঁর ঝোঁক বহুদিনের, জানান—“শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় শুধুমাত্র একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন, তিনি একজন চিন্তাবিদ ও শিক্ষাবিদও। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই ছোট্ট প্রয়াস।” তিনি আরও বলেন, “শোলার কাজ আমাদের সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, সেটাকেই একটু অন্যভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।”
পদ্মশ্রী কার্তিক মহারাজ এই প্রতিকৃতি গ্রহণ করে শিল্পীর প্রশংসা করেন এবং বলেন, “এটি শুধুমাত্র একটি প্রতিকৃতি নয়, এটি এক গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রকাশ। এই ধরনের উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকে আমাদের ঐতিহ্য ও ইতিহাসের সঙ্গে আরও যুক্ত করবে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। তাঁদের মতে, বর্তমান সময়ে যখন প্রযুক্তির দৌলতে শিল্পের ধরণ বদলাচ্ছে, তখন শোলার মতো ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে এইভাবে তুলে ধরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই প্রতিকৃতি অর্পণের মধ্য দিয়ে শুধু শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়নি, বরং বাংলার ঐতিহ্যবাহী শিল্পকেও নতুন করে সম্মান জানানো হয়েছে। এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও শিল্পীকে অনুপ্রাণিত করবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
দিনের শেষে, এই ছোট্ট কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ আয়োজন যেন স্মরণ করিয়ে দিল—শ্রদ্ধা প্রকাশের ভাষা অনেক রকম হতে পারে, আর সেই ভাষা যখন শিল্পের মাধ্যমে প্রকাশ পায়, তখন তা হয়ে ওঠে চিরস্মরণীয়।

