অনলাইনে নিজেরাই জমা দিতে পারবেন পরিবারের তথ্য, দ্রুত ও নির্ভুল জনগণনার লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগ
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা:
দেশের জনগণনা প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক, দ্রুত এবং নির্ভুল করতে পশ্চিমবঙ্গ-সহ সারা দেশে ১লা আগস্ট থেকে ১৫ই আগস্ট পর্যন্ত শুরু হয়েছে ডিজিটাল সেল্ফ এনুমারেশন বা স্ব-নিবন্ধন পর্ব। এই পর্যায়ে নাগরিকরা নির্দিষ্ট অনলাইন পোর্টাল বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিজেরাই পরিবারের প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে পারবেন।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিবারের একজন প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য নিজের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে নিবন্ধন করার পর পরিবারের সকল সদস্যের তথ্য অনলাইনে পূরণ করতে পারবেন। নাম, বয়স, লিঙ্গ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, বৈবাহিক অবস্থা, পরিবারের সদস্য সংখ্যা, বাসস্থানের বিবরণ-সহ একাধিক তথ্য নির্ধারিত ফরমে উল্লেখ করতে হবে। সমস্ত তথ্য জমা দেওয়ার পর একটি অ্যাকনলেজমেন্ট নম্বর দেওয়া হবে, যা ভবিষ্যতে তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কাজে লাগবে।
প্রশাসনের দাবি, এই ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে জনগণনার কাজ আগের তুলনায় অনেক বেশি দ্রুত সম্পন্ন হবে। তথ্য সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণও সহজ হবে। পাশাপাশি কাগজের ব্যবহার কমে পরিবেশ সংরক্ষণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
যাঁরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেল্ফ এনুমারেশনের মাধ্যমে তথ্য জমা দেবেন, তাঁদের ক্ষেত্রে পরবর্তী পর্যায়ে গণনাকারী কর্মীদের কাজ অনেকটাই সহজ হবে। যদিও প্রয়োজনে তথ্য যাচাইয়ের জন্য সরকারি কর্মীরা যোগাযোগ করতে পারেন। অন্যদিকে, যাঁরা অনলাইনে তথ্য জমা দিতে পারবেন না, তাঁদের বাড়িতে গিয়ে পরবর্তী পর্যায়ে গণনাকারীরা তথ্য সংগ্রহ করবেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাগরিকদের সঠিক ও নির্ভুল তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দেশের সরকারি পরিসংখ্যান এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের পরিকল্পনাকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই প্রয়োজনীয় নথি দেখে তথ্য পূরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল সেল্ফ এনুমারেশন জনগণনাকে প্রযুক্তিনির্ভর ও আরও কার্যকর করে তুলবে। ভবিষ্যতে সরকারি পরিষেবা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আবাসন, কর্মসংস্থান এবং অন্যান্য জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের পরিকল্পনা গ্রহণে এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এক নজরে
- সময়সীমা: ১লা আগস্ট থেকে ১৫ই আগস্ট
- পদ্ধতি: অনলাইন সেল্ফ এনুমারেশন (Self Enumeration)
- কারা করবেন: পরিবারের একজন প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য
- কী কী তথ্য লাগবে: পরিবারের সদস্যদের পরিচয়, শিক্ষা, পেশা, বাসস্থানসহ অন্যান্য তথ্য
- উদ্দেশ্য: দ্রুত, নির্ভুল ও প্রযুক্তিনির্ভর জনগণনা

