নিজস্ব প্রতিনিধি: ২৫শে বৈশাখ বিকেলে শ্রীরামপুর শ্রমজীবী হাসপাতালের বহির্বিভাগে পালিত হল রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী ও গণউদ্যোগে সংগৃহীত কম্পোনেন্ট সেপারেটর যন্ত্র উদ্বোধন করা হল। উদ্বোধন করলেন উপস্থিত সকলে মিলে। ঐ যন্ত্র কেনায় যাঁরা অর্থ সাহায্য করেছেন ছিলেন তাঁদেরও অনেকেই। উদ্বোধন ভাবনাটি ছিল অভিনব, একটি বোর্ডে লেখা রক্তদান শিবির করার অঙ্গীকার ও নতুন রক্তদাতা তৈরি করার শপথে স্বাক্ষর করেন সুধীজন।

কম্পোনেন্ট সেপারেটর কেনার উদ্দোগে প্রথম এগিয়ে আসেন শ্রীরামপুরের বাসিন্দা সমাজ কর্মী তন্ময় ভট্টাচার্য। অনুদান তুলে দেন শ্রমজীবী হাসপাতালের হাতে। অসুস্থ থাকায় আজ তন্ময়বাবু আসতে পারেননি। কিন্তু শ্রীরামপুরের বিশিষ্ট কবি রামকিশোর ভট্টাচার্য উপস্থিত থেকে বলেন, আমার ক্ষুদ্র সামর্থ্য নিয়ে শ্রমজীবী হাসপাতালের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমিই সম্মানিত বোধ করছি। এই উদ্যোগে এক লক্ষ টাকা দান করেন শ্রীরামপুরের বাসিন্দা দীপঙ্কর পোদ্দার। দীপঙ্কর বাবু বলেন, গণ উদ্যোগের এরকম উদাহরণ বিরল। গণ উদ্যোগে হাসপাতাল, ব্লাড ব্যাঙ্ক চালানো যায় তা শ্রমজীবী করে দেখিয়েছে। আমি শ্রমজীবীর পাশে সর্বদা আছি। শেওড়াফুলির বাসিন্দা নাট্যকর্মী তপন মোদক বলেন, যন্ত্র উদ্বোধনের পদ্ধতিটি ভারি আকর্ষণীয়। যে অঙ্গীকার আমরা করলাম সকলের দায়িত্ব তা পালন করার।

শ্রমজীবী ব্লাডসেন্টারের প্রবীণ চিকিৎসক নীরজ দাস বলেন, হাওড়া-হুগলীর সীমানা ছাড়িয়ে এই ব্লাড সেন্টার আজ রাজ্যের বহু জেলাকে পরিষেবা দিতে পারছে, যা আমাদের গর্বের বিষয়। শ্রমজীবী হাসপাতালের সহসম্পাদক গৌতম সরকার বলেন, সাধারণ মানুষই এই হাসপাতালের ভিত্তি ও চালিকাশক্তি, মানুষের সমর্থনই আমাদের পাথেয়।
প্রসঙ্গত ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর শ্রীরামপুরের বেলুমিল্কীতে পথ চলা শুরু করে “বেলুড় শ্রমজীবী স্বাস্থ্য প্রকল্প সমিতির ব্লাড সেন্টার।” যে ব্লাড সেন্টার রাজ্যের পঞ্চায়েত এলাকায় প্রথম গণউদ্যোগে গড়ে ওঠা কম্পোনেন্ট সেপারেটর সমৃদ্ধ ব্লাড সেন্টার।

ইতিমধ্যেই শ্রমজীবী ব্লাড সেন্টার হাওড়া – হুগলীসহ সারা রাজ্যের একটি নির্ভরযোগ্য ব্লাড সেন্টারে পরিণত হয়েছে। বহু মুমূর্ষু রুগী প্রতিদিন উপকৃত হচ্ছেন শ্রমজীবী ব্লাড সেন্টার থেকে।
কিন্তু রক্ত এবং রক্তের উপাদানের চাহিদা ও যোগানের ভারসাম্যে কিছু ফারাক থাকছিল। কেননা অধিকাংশ রক্তদান শিবির আয়োজিত হয় রবিবার বা বিশেষ বিশেষ ছুটির দিনে। ঐদিন গুলিতে পরিকাঠামোগত অপ্রতুলতার কারণে চাহিদা মতো রক্তদান শিবির আয়োজন করতে পারছিল না শ্রমজীবী ব্লাডসেন্টার। ফলে সপ্তাহের শেষ দু-তিন দিনে তীব্র হচ্ছিল রক্ত সংকট। ফলে শ্রমজীবী ব্লাড সেন্টার আরও একটি কম্পোনেন্ট সেপারেটরসহ আনুষঙ্গিক পরিকাঠামো বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছিল।
পরিকাঠামো সম্প্রসারণে আনুমানিক খরচ ধরা হয় প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ টাকা।
শ্রমজীবী হাসপাতালের প্রতিটি উদ্যোগের সাফল্যের পিছনেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে শ্রমজীবী স্বজন বন্ধুদের। এক্ষেত্রেও তার ব্যাতিক্রম হয়নি আবেদনে সারা দিয়েছেন বহু বন্ধু। সেই সহযোগিতার উপর নির্ভর করে শ্রমজীবী কিনে ফেলতে পেরেছে বত্রিশ লক্ষ টাকা মূল্যের একটি নতুন কম্পোনেন্ট সেপারেটর যন্ত্র।
যে যন্ত্রই উদ্বোধন করা হল, রবীন্দ্রনাথের জন্মদিনে।

