সৌরভ আদক, হুগলিঃ
হুগলির ভদ্রেশ্বর পৌরসভায় বড়সড় রাজনৈতিক ধাক্কা। চেয়ারম্যান প্রলয় চক্রবর্তী সহ মোট ৮ জন কাউন্সিলর পদত্যাগ করেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই জোর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। পৌর প্রশাসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। একই সঙ্গে উঠছে একাধিক প্রশ্ন— এটি কি শুধুই প্রশাসনিক মতবিরোধ, নাকি এর পিছনে রয়েছে আরও বড় রাজনৈতিক সমীকরণ?
সূত্রের খবর, পদত্যাগপত্র ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট দফতরে জমা পড়েছে। চেয়ারম্যান প্রলয় চক্রবর্তীর সঙ্গে একযোগে একাধিক কাউন্সিলরের ইস্তফা কার্যত ভদ্রেশ্বর পৌর প্রশাসনের ভিত নড়িয়ে দিয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের নির্দিষ্ট কারণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি, তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পালাবদলের পরবর্তী পরিস্থিতিই এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ হতে পারে।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই বিভিন্ন পুরসভা, পঞ্চায়েত ও প্রশাসনিক স্তরে চাপা অস্থিরতার খবর সামনে আসছে। কোথাও দলবদল, কোথাও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, আবার কোথাও প্রশাসনিক অবস্থান নিয়ে মতবিরোধ— সব মিলিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন যথেষ্ট উত্তপ্ত। সেই আবহেই ভদ্রেশ্বর পৌরসভার এই গণপদত্যাগ নতুন করে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরেই পৌরসভার অন্দরে মতানৈক্যের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, উন্নয়নমূলক প্রকল্প এবং রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন বাড়ছিল বলেও দাবি স্থানীয়দের একাংশের। যদিও এই বিষয়ে প্রকাশ্যে এখনও বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি পদত্যাগী কাউন্সিলররা।
চেয়ারম্যান প্রলয় চক্রবর্তী দীর্ঘদিন ধরেই ভদ্রেশ্বরের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। তাঁর নেতৃত্বে পৌর প্রশাসনে একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে বলে দাবি শাসক শিবিরের। কিন্তু হঠাৎ করেই তাঁর পদত্যাগ রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
বিরোধীদের দাবি, এই পদত্যাগই প্রমাণ করছে যে শাসকদলের অন্দরেই ভাঙন শুরু হয়েছে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং গোষ্ঠীকোন্দলের জেরেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যদিও শাসকদলের তরফে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বড় প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পুর প্রশাসনের ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান সহ একযোগে এতজন কাউন্সিলরের পদত্যাগ নিঃসন্দেহে বড় ঘটনা। এর ফলে বোর্ডের স্থায়িত্ব, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং ভবিষ্যৎ ক্ষমতার সমীকরণ— সবকিছুই নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
এখন নজর রাজ্য নেতৃত্বের দিকে। এই পদত্যাগের পর দল কী অবস্থান নেয়, নতুন চেয়ারম্যান কে হন, বোর্ড টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয় কিনা— সেই সমস্ত দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
ভদ্রেশ্বরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই হুগলির রাজনৈতিক আবহ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে এই গণপদত্যাগ আরও বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় কিনা, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।


