বিশ্বশান্তি ও সৌভ্রাতৃত্বের বার্তা
অরূপ সাহা
বুদ্ধপূর্ণিমায় রিষড়ার বড়ুয়াপাড়ায় ধর্মদয় বৌদ্ধবিহারে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হলো ভগবান গৌতম বুদ্ধের ২৫৭০তম জন্মজয়ন্তী। সকালে মঠে পুজোপাঠ , প্রার্থনা এবং বিকেলে শোভাযাত্রা এবং ধর্মসভা অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমান পৃথিবীতে যেখানে হিংসা , অশান্তি, হানাহানি , মানুষের প্রতি মানুষের অবিশ্বাস প্রভৃতি মানবজীবনকে যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার দিকে নিয়ে চলেছে সেক্ষেত্রে ভগবান বুদ্ধের শান্তি ও অহিংসার বাণীই একমাত্র বাঁচার পথ।
মঠের বর্তমান প্রধান ভান্তে রত্নপ্রিয় বলেন, আমরা ড়াই হাজার বছর আগে গৌতম বুদ্ধ যে দর্শন প্রচার করেছিলেন, তার মূল কথাই ছিল অহিংসা , করুণা ও শান্তি। তিনি বলেছেন, মানুষের দুঃখের মূল কারণই হলো লোভ, ক্রোধ, মোহ – যা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

ধর্মদয় বৌদ্ধবিহারের অন্যতম কর্মকর্তা বিজন বড়ুয়া এদিন জানান, এই বিহারে যে অশ্বত্থ বৃক্ষটি রয়েছে তা বুদ্ধগয়ার মেন টেম্পলের যে বোধিবৃক্ষটি রয়েছে, যার তলায় বসে গৌতম বুদ্ধ একদা সাধনা করে বোধিলাভ করেছিলেন, সেই বৃক্ষেরই চতুর্থ প্রজন্মের চারা। এছাড়াও এখানকার এই অশ্বত্থ বৃক্ষের চারপাশে ২৮ বুদ্ধের রূপ তুলে ধরা হয়েছে যা জাতক কাহিনীতে পাওয়া যায়। ভগবান বুদ্ধ পুনর্জন্মের কথা বলেছেন। তিনি বলেছিলেন, তার আগেও তার ২৭ বার জন্ম হয়েছে নানান রূপে । তিনি ২৮ তম জন্মে গৌতম বুদ্ধ হয়ে জন্মেছেন। এছাড়াও এখানে বুদ্ধের পঞ্চশিষ্যের মূর্তিও তৈরি করা হয়েছে। এদিন সকালে আগত সকল ভক্ত ২৮ বুদ্ধ ও বুদ্ধদেবের পঞ্চশিষ্যকেও ফুল দিয়ে প্রণাম নিবেদন করেন।

রিষড়ার এই ধর্মদয় বিহারের আলমারিতে সংগ্ৰহ করে রাখা রয়েছে বৌদ্ধদের অন্যতম পবিত্র ধর্মগ্রন্থ সমগ্ৰ ত্রিপিটক ও জাতক কাহিনী, যা সবই পালি ভাষায় রচিত।


