শ্রমজীবী হাসপাতালে শুরু স্নায়ুতন্ত্রের শল্য চিকিৎসা
নিজস্ব প্রতিনিধি:
সম্প্রতি শ্রীরামপুর শ্রমজীবী হাসপাতালে শুরু হয়েছে স্নায়ুতন্ত্রের শল্য চিকিৎসা।
দিন কয়েক আগে প্রবল মাথার যন্ত্রণায় আক্রান্ত হন, হরিপালের বাসিন্দা বছর সাতচল্লিশের এক গৃহবধু। ঐ গৃহবধূর স্বামী অন্যের জমিতে কৃষিকাজ করেন। নিজের সামান্য দু কাঠা জমিতে বসতবাড়ি ও সব্জী বাগান। একমাত্র পুত্র সদ্য আই টি আই পাশ করে বর্তমানে বেকার।ওনার স্বামীরও স্নায়ুর সমস্যা আছে।উচ্চ রক্তচাপের রুগীও তিনি। আক্রান্ত গৃহবধূকে দ্রুত হরিপাল গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে চিকিৎসক পর্যবেক্ষণ করে কলকাতার কোনো মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর রুগীর বাড়ির লোক তাঁকে নিয়ে আসেন শ্রীরামপুর শ্রমজীবী হাসপাতালের স্ট্রোক ইউনিটে। চিকিৎসক পরীক্ষা করে ভর্তি করে নেন। হাসপাতালেই সিটি স্ক্যান করে দেখা যায় মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে। জমে আছে রক্ত। প্রয়োজন জরুরি ভিত্তিতে “ক্লেনিওটমি অপারেশন”। কিন্তু কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে তার বিপুল খরচ। সরকারি হাসপাতালে সময় লাগবে।
শ্রীরামপুর শ্রমজীবী হাসপাতালে নিউরোসার্জারি বিভাগ খোলার প্রস্তুতি চলছিল। কিছু যন্ত্রপাতিও কেনা হয়েছিল। কিন্তু প্রায় কুড়ি লাখ টাকা মূল্যের প্রয়োজনীয় কিছু যন্ত্র কেনা হয়নি। হাসপাতালের পক্ষ থেকে ঐ যন্ত্র সরবরাহকারী সংস্থার কাছে সহযোগিতার আবেদন জানানো হয়। অবশেষে সরবরাহকারি সংস্থার সহযোগিতায় অপারেশন হয়। অপারেশনে সময় লাগে প্রায় দু’ঘন্টা। বের করা হয় প্রায় পঞ্চাশ এমএল জমে থাকা রক্ত।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সংস্থার কাছে সাহায্যের আবেদন করে।
সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে এবার এগিয়ে এল চন্দননগরের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রেবা শিল মেমোরিয়াল ট্রাস্ট। ঐ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে ষোলো লক্ষ টাকা মূল্যের নিউরো সার্জারীর অপরিহার্য “বারহোল” যন্ত্রটি এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে তুলে দেওয়া হল শ্রীরামপুর শ্রমজীবী হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের হাতে।
রেবা শীল মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সম্পাদক কুনাল চন্দ্র সেন বলেন, শ্রমজীবী মানুষের উদ্যোগে গড়ে উঠেছে শ্রমজীবী হাসপাতাল, সাধারণ মানুষই তার পরিচালক। বহু সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ এখান থেকে পরিষেবা পান। যা আমাদের প্রাণিত করে। আমরা ভবিষ্যতেও এই হাসপাতালে সহযোগিতা করব। অনুষ্ঠানে পরিবেশ ও শ্রমিক আন্দোলনের অগ্রণী ব্যাক্তিত্ব বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায় বলেন, বিশ্বজুড়ে আজ শ্রমিক দিবস পালিত হলেও, শ্রমিকরা কোথাও ভাল নেই। তবে শ্রমজীবী হাসপাতাল যেভাবে শ্রমজীবী মানুষেমানুষের পাশে থাকে তা প্রশংসনীয়। আমিও বিভিন্ন সময়ে এখানে বিভিন্নজনকে পাঠিয়ে সুফল পেয়েছি।শ্রমজীবী হাসপাতালের সভাপতি বাসুদেব ঘটক বলেন, ঐ যন্ত্র পাওয়ার ফলে গ্রামীণ একটা হাসপাতালে নিউরোলজিকাল অপারেশন করা আমাদের পক্ষে সহজ হল। উপকৃত হবেন শ্রমজীবী মানুষই। হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মী সব্যসাচী রায় কল্যাণী পাত্র, মর্জিনা খাতুন, দীপালি মাহাতো রামপদ মাহাতো, সাগর রায়দের কথায় আজ আমাদের খুব আনন্দের দিন, এই সার্জারি জেলার কোথাও হয় না। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করব সব রুগীকে সুস্থ করে বাড়ি পাঠাতে। হাসপাতালের সহসম্পাদক গৌতম সরকার বলেন, কাজ এখনও বাকী, আমাদের প্রয়োজনীয় আরও কিছু ভেন্টিলেটর, মনিটর ওটি টেবিল ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম যোগাড় করতে হবে। আবারও সকলের সহযোগিতা আমরা প্রার্থনা করি।



